ঈমান-আকীদাপ্রশ্নোত্তর-ফাতাওয়া

ইসলাম ও ঈমানের রোকনসমূহ

প্রশ্ন: ইসলাম ও ঈমানের রুকনগুলো কি কি জানতে চাই?

উত্তর:

এক- ইসলামের রোকনসমূহ

জীবনের শুরুতেই শিশুদের ঈমান ও ইসলামের রোকনসমূহ তালীম দিতে হবে, যাতে তারা বড় হয়ে, তা হতে দূরে সরে না যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি:

এক.  “এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন হক ইলাহ নাই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।” অর্থাৎ, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন ইলাহ নাই আর আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে মুহাম্মদ এর আনুগত্য করা ওয়াজিব।

(‘আল্লাহ ছাড়া কোনো হক ইলাহ নেই’ সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ হলো: আল্লাহ ব্যতীত কারো ইবাদত না করা, অন্য কাউকে না ডাকা; তাঁকে তার কেবল শরী‘আতের মাধ্যমেই ইবাদত করা; আর শুধুমাত্র কুরআন ও সুন্নাহ হতে নির্গত শরী‘আত অনুযায়ীই বিচার-ফয়সালা করা।

‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল’ সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ হলো: যে আদেশ তিনি দিয়েছেন তা আনুগত্য করা; যে সংবাদ তিনি এনেছেন তা বিশ্বাস করা; আর যা থেকে তিনি বিরত থাকতে বলেছেন ও সাবধান করেছেন, তা থেকে দূরে থাকা। কেননা, তার আনুগত্যই আল্লাহর আনুগত্য)।

দুই. “সালাত কায়েম করা”: সালাতের আরকান ও ওয়াজিবসমূহ সহ খুশুর সাথে সালাত আদায় করা।

তিন.  “যাকাত প্রদান করা” : যদি কোন মুসলিম তার মৌলিক প্রয়োজনের বাইরে ৮৫ গ্রাম স্বর্ণ বা তার সমপরিমাণ অর্থের মালিক হয়, তাহলে তার উপর যাকাত ওয়াজিব হবে যখন তার এ সম্পদের উপর এক বছর অতিবাহিত হয়; তখন তাকে শতকরা ২.৫ টাকা যাকাত দিতে হবে। এ-ছাড়াও আরও অনেক সম্পদ আছে যেগুলোর উপর যাকাত ওয়াজিব হয়। সে সব সম্পদের যাকাত শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত হারে প্রদান করতে হয়।

চার. “বায়তুল্লাহর হজ করা”: হজ তার উপর ফরয হবে, যে হজ করার সামর্থ্য রাখে।

পাঁচ.  “রমযানের রোজা রাখা:” রোজা বলতে আমরা বুঝি, নিয়ত সহকারে ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খানা-পিনা ও রোজার পরিপন্থী সবধরনের কাজ হতে বিরত থাকা।

দুই- ঈমানের রোকনসমূহ:

১. “আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা”: আল্লাহর অস্তিত্ব এবং ইবাদতে ও সিফাতসমূহে তাঁর একত্ব সম্পর্কে প্রগাঢ় বিশ্বাস করা।

২. “আল্লাহর ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান আনা”: ফেরেশতা হল, আল্লাহরই মাখলুক; যারা আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন করে এবং তিনি যা করতে বলেন, তাই করে; তার কোন প্রকার এদিক সেদিক করে না এবং করার ক্ষমতা রাখে না।

৩. “আল্লাহর কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনা”: আল্লাহর নাযিল-কৃত আসমানি কিতাব তাওরাত, জবুর, ইঞ্জিল ও সর্বোত্তম কিতাব কুরআনের প্রতি ঈমান আনা।

৪. “আল্লাহর রাসূলদের প্রতি ঈমান আনা”: সর্ব প্রথম রাসূল হলেন নূহ আ. আর সর্বশেষ রাসূল হল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

৫. “আখিরাতের প্রতি ঈমান আনা”: এর অর্থ হল, হিসাব দিবসের প্রতি বিশ্বাস করা। মানুষের যাবতীয় কর্মের উপর অবশ্যই হিসাব নেয়া হবে এবং তার কর্মের বিনিময়ে তাকে প্রতিদান দেয়া হবে, যদি তার কর্ম ভালো

হয়, তবে ভালো প্রতিদান আর যদি খারাপ হয়, তবে খারাপ প্রতিদান।

৬. “তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান রাখা”: ভালো ও মন্দের তকদীরের উপর রাজি-খুশি থাকা। কারণ, এটা আল্লাহরই নির্ধারণ। (তবে শুধু এর উপর নির্ভর না করে থেকে বৈধ উপায়- উপকরণ গ্রহণ করতে হবে।)

[মূল হাদীসটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন]

আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close