আল-কুরআনপ্রশ্নোত্তর-ফাতাওয়ামুফতি যাকারিয়্যা মাহমূদ-এর কলামসালাত-নামায

নামাযে বিশুদ্ধ তেলাওয়াত কি আবশ্যিক প্রয়োজন?

আসসালামু আলাইকুম
প্রশ্ন: মুহতারাম শায়খ! নামাযে বিশুদ্ধ তেলাওয়াতের আবশ্যকতা ও প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? শরয়ী উত্তর জানিয়ে বাঁধিত করবেন।

উত্তর:

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

এক- নামায একজন মুসলিমের জন্য যেমন অবশ্য পালনীয় বিধান, তেমনি বিশুদ্ধ তেলাওয়াতও নামায শুদ্ধ হওয়ার জন্য অত্যাবশ্যকীয় কারণ। তাই প্রত্যেক মুসলিমের জন্য বিশুদ্ধভাবে কুরআন শিক্ষা অপরিহার্য।

আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা তারতীল বা বিশুদ্ধভাবে কুরআন পাঠ করো”। (মুযযাম্মিল-৪)।

দুই- নামায শুদ্ধ হওয়ার জন্য বিশুদ্ধ তেলাওয়াত অত্যন্ত জরুরী। তেলাওয়াতে গলদ থাকলে নামায বাতিল হওয়া ছাড়াও গুনাহগার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিম্মক্ত দু’টি উদাহরণের মাধ্যমে আশাকরি বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে।

ক- সূরা ইখলাসের প্রথম আয়াত “قل ھواللھ احد” অর্থাৎ, “(হে নবী), আপনি বলুন, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়”। এই আয়াতে “قل” শব্দের ق এর পরিবর্তে যদি ک দিয়ে পড়া হয়- তাহলে অর্থ দাঁড়াবে- “(হে নবী), খেয়ে ফেলুন সেই আল্লাহকে, যিনি এক ও অদ্বিতীয় (নাউযু বিল্লাহ)!

খ- সূরা ফাতিহার শেষ আয়াত “أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ ْ” অর্থ হল, যাদেরকে আপনি নেয়ামত দিয়েছেন। পক্ষান্তরে এই আয়াতে যদি “تَ” (তা) এর পরিবর্তে যদি “تُ” (তু) পড়া হয় তাহলে অর্থ হবে, যাদেরকে আমি নেয়ামত দিয়েছি! তাঁর মানে পুরো অর্থটাই পরিবর্তন হয়ে গেল!

এভাবে সামান্য উচ্চারণের হেরফেরে সম্পূর্ণ বিপরীত অর্থ হয়ে যায় এমন জায়গা পবিত্র কুরআনে বহু রয়েছে। সুতরাং উল্লেখিত দুটি উদাহরণের আলোকে এটি স্পষ্ট যে, নামায সহীহ-শুদ্ধ হওয়ার জন্য বিশুদ্ধ তেলাওয়াত অত্যন্ত অত্যাবশ্যক ও জরুরী একটি বিষয়।
———————————————————————-
উত্তর প্রদানেঃ মুফতি যাকারিয়্যা মাহমূদ মাদানী
বি এ, অনার্স, এম এ, এমফিল: মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব।

আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close