প্রশ্নোত্তর-ফাতাওয়াসালাত-নামাযসিয়াম-রোযা

৬ মাস দিন ও ৬ মাস রাতের অঞ্চল সমূহে নামায, রোযা

প্রশ্ন: যেসব অঞ্চলে ৬ মাস দিন ও ৬ মাস রাত থাকে সেখানকার মুসলিমরা কীভাবে নামায, রোযা আদায় করবে?

উত্তর: কোনো অঞ্চলে দিনরাত ২৪ ঘণ্টার চেয়ে দীর্ঘ হলে যেমন- ৬ মাস দিন ও ৬ মাস রাত বা এর চেয়ে কম বা বেশি। সেখানকার মুসলিমরা  নামায ও রোযার জন্য একটি সময়সূচী নির্ধারণ করে নিবে। যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাজ্জাল আবির্ভূত হওয়ার দিনের ব্যাপারে একটি সময়সূচী নির্ধারণ করে নেয়ার আদেশ করেছেন। যে দিন হবে ১ বছরের সমান অথবা ১ মাসের সমান কিংবা ১ সপ্তাহের সমান।

সৌদি উচ্চ উলামা পরিষদ এই মাসয়ালাটি গবেষণা করে একটি সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেছেন যার ; নং- ৬১ তারিখ- ১২/৪/১৩৯৮ হিজরী। উক্ত সিদ্ধান্তটি নিম্নরূপ:

কেউ যদি এমন কোন দেশে অবস্থান করে যেখানে গ্রীষ্মকালে সূর্য ডুবে না অথবা শীতকালে সূর্য উদিত হয় না অথবা দিবালোক ৬ মাস ও রাতের অন্ধকার ৬ মাস স্থায়ী হয় তবে তাদের জন্য প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৫ বার সালাত আদায় করা ফরজ এবং নিকটবর্তী দেশের নামাযের সময়সূচী অনুযায়ী তারা একটি সময়সূচী নির্ধারণ করে নিবে। নিকটবর্তী যে দেশে নামাযের সময়গুলোএকটি থেকে আরেকটিআলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায়। এর দলিল হচ্ছে- ইসরা ও মিরাজের হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের উপর দিবানিশি ৫০ ওয়াক্ত নামায ফরজ করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রবের নিকট তা কমানোর প্রার্থনা করতে থাকলেন, এক পর্যায়ে আল্লাহ বললেন:

(يَا مُحَمَّدُ ، إِنَّهُنَّ خَمْسُ صَلَوَاتٍ كُلَّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ) رواه مسلم (162) .

“হে মুহাম্মদ! নিশ্চয় (ফরজকৃত নামায) প্রতিদিন ও রাতে ৫ বার নামায।”[ সহিহ মুসলিম (১৬২)]

আরও দলিল হচ্ছে– ত্বালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে নজদ থেকে এক লোক এলো। তার চুল ছিল এলোমেলো। আমরা তার গুনগুন শব্দ শুনছিলাম; কিন্তু সে কি বলছে তা বুঝা যাচ্ছিল না। এক পর্যায়ে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এলো এবং ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করল। উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “দিনে ও রাতে ৫ বার নামায আদায় করা।” সে বলল: “আমার উপর কি এগুলো ছাড়া আর কোন নামাযের দায়িত্ব আছে?” তিনি বললেন: “না, তবে আপনি যদি নফল নামায করতে চান…।”[সহিহ বুখারী (৪৬) ও সহিহ মুসলিম (১১)]

এছাড়াও সাব্যস্ত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নিকট মসীহ দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তখন সাহাবীগণ বললেন: “সে পৃথিবীতে কতদিন থাকবে?” তিনি বললেন: “চল্লিশ দিন। তার একটা দিন হবে এক বছরের সমান। একটা দিন হবে এক মাসের সমান। একটা দিন হবে এক সপ্তাহের সমান। আর বাকি দিনগুলো আপনাদের দিনের মত হবে।” আমরা বললাম: “ইয়া রাসূলুল্লাহ! তার যে দিনটি এক বছরের সমান হবে সে দিনে কী শুধু একদিনের সালাত আদায় করলে যথেষ্ট হবে?” তিনি বললেন: “না, আপনাদেরকে হিসাব করে নিতে হবে।”[সহিহ মুসলিম (২৯৩৭)]

সুতরাং যে দিনের দৈর্ঘ্যএকবছরের সমানসেদিনে শুধু ৫ বারনামায আদায় করাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যথেষ্ট ঘোষণা করেন নি। বরং সে দিনের প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৫ বার নামায আদায় করা ফরজ করেছেন এবং তাদের দেশের স্বাভাবিক দিনে এক ওয়াক্ত থেকে আরেক ওয়াক্তের মাঝে যে ব্যবধান থাকে সেটাকে ভিত্তিকরে নামাযের সময়সূচী নির্ধারণ করে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।সুতরাং যে দেশের নামাযের সময়সূচী নির্ধারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে, সে দেশের মুসলিমদের উপর ওয়াজিব হল- তারা তাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী যে দেশে রাত ও দিন আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায়, যে দেশে শরিয়ত নির্ধারিত আলামতগুলোর ভিত্তিতে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৫ ওয়াক্ব্ত নামাযের সময়সূচী নির্ণয় করা যায় সে দেশের সময়সূচীর উপর ভিত্তি করে তাদের নামাযের সময় নির্ধারণ করে নিবে।

অনুরূপভাবে তাদের উপর রমজান মাসের সিয়াম পালন ফরজ। তারা তাদের সিয়াম পালনের জন্য রমজান মাসের শুরু ও শেষ নির্ধারণ করবে, রমজান মাসের প্রতিদিন রোজা শুরুর সময় ও ইফতারের সময় নির্ধারণ করবে তাদের সবচেয়ে কাছের যে দেশে স্বাভাবিক ২৪ ঘণ্টায় দিন-রাত পৃথকভাবে চিহ্নিত করা যায় সে দেশের ফজরের সময় ও সূর্যাস্তের সময়ের ভিত্তিতে। এই দিনের সময়সীমা হবে ২৪ ঘণ্টা। এর দলিল হচ্ছে- ইতিপূর্বে উল্লেখিত মসিহ দাজ্জাল সম্পর্কিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস। যে হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে নামাযের সময় নির্ধারণ পদ্ধতি সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে রোজা ও নামাযের মাসয়ালার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close