আযান-ইকামত

রাসূলুল্লাহ ﷺ এর শাফায়াত পাওয়ার সহজ আমল

আসসালামু আলাইকুম
প্রশ্ন: প্রিয় শায়খ! আমি কীভাবে রাসুলুল্লাহ ﷺ এর শাফায়াত পেতে পারি? অনেকে বলেন আযানের জবাব দিলে নাকি রাসূল ﷺ এর শাফায়াত পাওয়া যাবে, একথা কি ঠিক?

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ
হ্যাঁ  এ মর্মে অনেকগুলো হাদীস পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “আযান শুনে যদি কেউ আযানের দোআ পড়ে কিয়ামতের দিন ঐ ব্যাক্তির জন্য সুপারিশ করা আমার জন্য অনিবার্য হয়ে যাবে।”
(সহীহ আল-বুখারী, ৬১৪, তিরমিযী, ২১১১, নাসায়ী, ৬৮০, আবু দাউদ, ৫২৯)।

আযানের জবাব দেওয়ার পরে যে একবার দুরুদে ইবরাহীম (নামাযে যেই দুরুদ পড়া হয় সেটা) পড়ে ও এর পরে আযানের যেই দোআ রয়েছে সেটা পড়ে তার জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ এর শাফায়াত করা জরুরী হয়ে পড়ে। কেউ চাইলে আযানের জবার দেওয়ার পর অতিরিক্ত এই আমলটিও করতে পারেন।

দোআটি হলো,
اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلاَةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّداً الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامَاً مَحمُوداً الَّذِي وَعَدْتَهُ،
উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা রাব্বা হা-যিহিদ্ দাও’য়াতিত্ তা-ম্মাহ। ওয়াস সালা-তিল ক্বা-’ইমাহ। আ-তি মুহা’ম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাযিলাহ। ওয়াব্আ’সহু মাক্বা-মাম মাহ’মূদানিল্লাযী ওয়াআ’দতাহ।

অর্থঃ হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান এবং প্রতিষ্ঠিত নামাযের তুমিই প্রভু! মুহাম্মাদ ﷺ কে ওসীলা (জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর) এবং ফযীলত (সকল সৃষ্টির উপর অতিরিক্ত মর্যাদা দান করুন), আর তাঁকে মাকামে মাহমূদে (প্রশংসিত স্থানে) পৌঁছিয়ে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন।

বিঃদ্রঃ- আমাদের দেশের বিভিন্ন বই পুস্তক ও রেডিও টিভিতে যে দোআ শোনা বা দেখা যায় তার মধ্যে কিছু অতিরিক্ত কথা রয়েছে যা কোনো সহীহ হাদীসে পাওয়া যায়না। যেমন, “ইন্নাকালা তুখলিফুল মিয়াদ”, “ওয়াদ-দারাজাতার রাফীয়াতা” ইত্যাদি। এগুলো বায়হাকীতে রয়েছে, তবে সনদ  সহীহ নয়। তাই এখানে যে দোআটি দেয়া আছে সেটা পড়াই উত্তম। কারণ সবগুলো

আল্লাহ্‌ই সবচেয়ে ভালো জানেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close