পর্দা ও হিজাব

নারীর কন্ঠ কি সতরের অন্তর্ভুক্ত?

প্রশ্ন: অনেকে বলেন নারীর কণ্ঠ বা আওয়াজ সতর বা পর্দার অন্তর্ভুক্ত, আবার অনেকে বলেন, না। আমি কনফিউশনে আছি। আমাকে একটু বলবেন কি শায়খ! নারীদের কন্ঠ কি সতরের অন্তর্ভুক্ত?

উত্তর: এ ব্যাপারে ওলামাদের মতভেদ রয়েছে। তবে অধিকতর বিশুদ্ধ কথা হলো, নারীদের কণ্ঠ সতরের অন্তর্ভূক্ত নয়। অর্থাৎ একজন নারী পর্দার অন্তরালে থেকে প্রয়োজনে গাইরে মাহরাম পুরুষদের সঙে কথা বলতে পারে। অনুরুপভাবে কোনো গাইরে মাহরাম পুরুষ যদি কোনো নারীর কন্ঠ শুনে ফেলে তাতেও গুনাহ হবে না। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত হল, নারীকে কথা বলার সময় কোমল ও আকর্ষণীয় কণ্ঠ পরিহার করতে হবে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা বলবে না। কেননা-

মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন:

ﻳَﺎ ﻧِﺴَﺎﺀَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﻟَﺴْﺘُﻦَّ ﻛَﺄَﺣَﺪٍ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀِ ۚ ﺇِﻥِ ﺍﺗَّﻘَﻴْﺘُﻦَّ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﺨْﻀَﻌْﻦَ ﺑِﺎﻟْﻘَﻮْﻝِ ﻓَﻴَﻄْﻤَﻊَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻓِﻲ ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﻣَﺮَﺽٌ ﻭَﻗُﻠْﻦَ ﻗَﻮْﻟًﺎ ﻣَّﻌْﺮُﻭﻓًﺎ.

“হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে।” (সূরা আহযাব: ৩২)

আল্লাহ তা’আলা আরোও বলেন:

ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺳَﺄَﻟْﺘُﻤُﻮﻫُﻦَّ ﻣَﺘَﺎﻋًﺎ ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﻫُﻦَّ ﻣِﻦ ﻭَﺭَﺍﺀِ ﺣِﺠَﺎﺏٍ ۚ ﺫَٰﻟِﻜُﻢْ ﺃَﻃْﻬَﺮُ ﻟِﻘُﻠُﻮﺑِﻜُﻢْ ﻭَﻗُﻠُﻮﺑِﻬِﻦَّ ۚ.

“তোমরা তাঁদের নিকট কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্যে এবং তাঁদের অন্তরের জন্যে অধিকতর পবিত্রতার কারণ।” (সূরা আযাব: ৫৩)

হাদীসে এসেছে,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ كُتِبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ نَصِيبُهُ مِنَ الزِّنَى مُدْرِكٌ ذَلِكَ لاَ مَحَالَةَ فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ وَالأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الاِسْتِمَاعُ وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلاَمُ وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْشُ وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা র. সুত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আদম সন্তানের উপর যিনার যে অংশ লিপিবদ্ধ আছে তা অবশ্যই সে প্রাপ্ত হবে। দু’চোখের যিনা হল দৃষ্টিপাত করা, দু’কানের যিনা হল শ্রবণ করা, জিহ্বার যিনা হল কথোপকথন করা, হাতের যিনা হল স্পর্শ করা, পায়ের যিনা হল হেঁটে যাওযা, অন্তরের যিনা হল আকৃষ্ট ও বাসনা করা। আর লজ্জাস্থান তা বাস্তবায়িত করে এবং মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। (মুসলিম, হাদীস-৬৫১৩)

আল্লাহ্‌ই সবচেয়ে ভালো জানেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close