অর্থনীতি-ব্যবসা-বাণিজ্যপ্রশ্নোত্তর-ফাতাওয়া

একজনের অর্থ ও আরেকজনের শ্রমের সমন্বয়ে ব্যবসা

প্রশ্ন: আমার কাছে অর্থ নেই। আমি ব্যবসার নিয়তে এক পরিচিত ভাই থেকে কিছু টাকা নিয়েছি এই শর্তে যে, ওনার টাকা আর আমার পরিশ্রমে ব্যবসাটি পরিচালিত হবে। এবং ওনাকে  ইচ্ছেমত কিছু লভ্যাংশ দেয়া হবে। আমার জানার বিষয় হল,  এ ধরণের ব্যবসা  কি আমার জন্য বৈধ হবে? শরয়ী উত্তর জানিয়ে বাঁধিত করবেন।

উত্তর: ইসলামের দৃষ্টিতে একজনের অর্থ ও আরেকজনের শ্রমের ভিত্তিতে পরিচালিত ব্যবসা নাজায়েয নয়। ফিকহের পরিভাষায় এ ধরণের ব্যবসাকে  বাইয়ে মুদারাবা বলা হয়।

আবু নুয়াঈম প্রমুখ বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাদিজা রা.কে বিয়ে করার পূর্বে তার সঙ্গে এই মুদারাবা পদ্ধতিতে তার মালামাল মক্কা থেকে শাম (সিরিয়া) নিয়ে ব্যবসা করেছেন। সাহাবীদের যুগেও এটি প্রচলিত ছিলো। মূলত: এ ব্যবসা প্রথাটি জাহেলী যুগ থেকেই প্রচলিত। পরবর্তীতে ইসলাম তার অনুমোদ দিয়েছে।

বাইয়ে মুদারাবা ব্যবসার ক্ষেত্রে নিম্মোক্ত শর্ত ও বিষয়গুলো মেন্টেইন করা আবশ্যক:

বাইয়ে মুদারাবা বা  এ ধরণের ব্যবসার ক্ষেত্রে শর্ত হল, অর্থদাতা ও শ্রমদাতা দু জনের লভ্যাংশের পরিমাণ ব্যবসা শুরু করার পূর্বে অবশ্যই নির্ধারণ করে নিতে হবে। যেমন: ৫০%, ৬০%,  ৭০% ইত্যাদি। শুধুমাত্র শ্রমদাতার ইচ্ছার উপর লভ্যাংশের পরিমাণ ছেড়ে দেয়া শরিয়ত সম্মত নয়। এটি স্বচ্ছতার অন্তরায়। ইসলাম এরকম অস্বচ্ছ বিষয়কে অনুমোদন দেয়না। কেননা এই অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার কারণে যেকোনো সময় উভয়ের মাঝে সন্দেহ, মনোমালিন্য ও ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। তাই এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য ব্যবসা শুরু করার পূর্বেই উভয়ের লভ্যাংশের পরিমাণ বা পার্সেন্টিজ নির্ধারণ করে নেয়া অত্যাবশ্যক। ● ব্যবসায় লাভ হলে উভয়ে চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ ভাগাভাগি করে নিবে।

● ব্যবসায় যদি মূলধন ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে অর্থদাতা পরিপূর্ণ ক্ষতি বহন করবে, কিন্তু যে ব্যক্তি শুধু শ্রম দিয়েছে সে আর্থিক কোনো ক্ষতি বহন করবে না। কারণ তার শ্রম বিফলে যাওয়ায় মধ্যে দিয়ে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

● যদি লাভ-লোকসান কোনোটাই না হয় তাহলে যার মূলধন সে তা ফেরত নিবে।

(আল মাউসূআতুল ফিকহিয়্যাহ ৮/১১৬)

আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close