নারী অঙ্গনপ্রশ্নোত্তর-ফাতাওয়া

মাহরাম ছাড়া নারীর সফর

প্রশ্ন: আমি একজন নারী। আমি কি আমার ফুফু ও ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে হজ্জে যেতে পারবো? অথবা দূরের যেতে চাইলে কি তা আমার জন্য জায়েয হবে?

উত্তর: নারীকে মাহরাম ব্যতীত সফর করতে বারণ করার পিছনে ইসলামের একটি মহৎ উদ্দেশ্য রয়েছে, সেটি হলো নারীর সেফটি বা তার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইসলাম এটি নারীর কল্যাণেই করেছে। নারীরা প্রকৃতিগতভাবেই কিছুটা দুর্বল। তারা সবসময়ই নিজেদের মান-সম্মান, ইযযত-আব্রু নিয়ে আতংকগ্রস্ত থাকে। সামান্যতেই ভয় পেয়ে যায়। দুষ্টলোকেরা তাদের পিছু নিলে বাধা দেয়া বা আত্মরক্ষামূলক কিছু করা তাদের জন্য নিতান্তই কষ্টকর হয়ে ওঠে। এমতাবস্থায় ইসলাম তাকে সুরক্ষিত রাখার জন্য সফরে মাহরাম থাকা ওয়াজিব করে দিয়েছে; যাতে করে মাহরাম পুরুষ তাকে দুশ্চরিত্র ও হীন-উদ্দেশ্য চরিতার্থকারী লোলুপ পাপাচারীদের থেকে নিরাপদ রাখতে পারে। তাছাড়া সফর যেহেতু কষ্ট ও কালান্তিকর তাই মাহরাম পুরুষ এই সফরে নারীর প্রয়োজন বা দুর্বলতায় তাকে সহযোগিতা করতে পারে। 

হাদীসে এসেছে, আব্দুল্লাহ বিন আববাস র. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 

لاَ تُسَافِرِ الْمَرْأَةُ إِلاَّ مَعَ ذِي مَحْرَمٍ، وَلاَ يَدْخُلُ عَلَيْهَا رَجُلٌ إِلاَّ وَمَعَهَا مَحْرَمٌ ‏”‏‏.‏ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَخْرُجَ فِي جَيْشِ كَذَا وَكَذَا، وَامْرَأَتِي تُرِيدُ الْحَجَّ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ اخْرُجْ مَعَهَا

“অবশ্যই অবশ্যই কোন নারী মাহরাম ছাড়া সফর করবে না। তখন এক লোক দাঁড়িয়ে বলেন: ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! আমি তো অমুক যুদ্ধে যাওয়ার জন্য নাম লিখিয়েছি। আমার স্ত্রী হজ্জ করার জন্য বেরিয়েছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তুমি গিয়ে তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্জ কর।” (সহীহ বুখারী-১৭৪০)

উক্ত হাদীস থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, মাহরাম ব্যতীত সফর করতে না পারার এই হুকুম সকল প্রকার সফরের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য; এমনকি হজ্জের সফরের ক্ষেত্রেও। তাই মাহরাম ছাড়া কোন নারীর সফর করা জায়েয নয়। মাহরাম সাথে থাকা ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ এভাবে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই লোককে জিহাদ বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ সে লোক কোন এক যুদ্ধে যাওয়ার জন্য নাম লিখিয়েছিল এবং তার স্ত্রীর সফরটা ছিল হজ্জের মত নেক ও সওয়াবের কাজের সফর; কোন বিনোদন ভ্রমণ বা সন্দেহপূর্ণ ভ্রমণ নয়। তা সত্ত্বেও তিনি তাকে তার স্ত্রীর সাথে হজ্জ করতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মাহরামের ক্ষেত্রে আলেমগণ পাঁচটি শর্ত উল্লেখ করে থাকেন, সেগুলো হচ্ছে- পুরুষ হওয়া, মুসলিম হওয়া, বালেগ হওয়া, আকলবান হওয়া এবং এ নারীর জন্য পুরুষ লোকটি চিরস্থায়ীভাবে হারাম হওয়া; যেমন- পিতা, ভাই, চাচা, মামা, শ্বশুর, মায়ের স্বামী, দুধ-ভাই প্রমুখ (অস্থায়ীভাবে হারাম এমন পুরুষ নয়, যেমন- ভগ্নীপতি, ফুফা, খালু প্রমুখ)।

উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলবো: আপনার জন্য ফুফু কিংবা ফুফাতো ভাই কেউই আপনার জন্য মাহরাম নয় বিধায় তাদের সাথে হজ্জ কিংবা অন্যান্য কোনো সফরই বৈধ নয়।

আল্লাহ্‌ই সবচেয়ে ভালো জানেন।

আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close