প্রশ্নোত্তর-ফাতাওয়াহালাল-হারাম

অমুসলিমদের খাবার খাওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম। আমার কিছু বন্ধু ও কলিগ রয়েছে অন্য ধর্মের। আমার জন্য ওদের দেয়া কোনো খাবার বা হাদিয়া গ্রহণ করা জায়েয হবে কি?  আশা করি সঠিক উত্তরটি জানাবেন। 

উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম। মুসলিমদের জন্য অমুসলিমদের পক্ষ থেকে পেশকৃত খাবার গ্রহণ করতে কোন আপত্তি নেই। এমনিভাবে খাবার ক্রয় করার জন্য প্রদত্ত অর্থ গ্রহণ করতেও কোন আপত্তি নেই। কেননা এ ধরণের খাবার অনুদান বা হাদিয়া (উপহার) হিসাবে গণ্য। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় কাফেরের কাছ থেকে হাদিয়া গ্রহণ করেছেন। তবে শর্ত হলো, সে খাদ্যটি হারাম না হওয়া এবং তাতে হারাম কোনকিছুর সংমিশ্রণ না থাকা।

আবু হুমাইদ আল-সাঈদি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাবুক যুদ্ধ করেছি। ‘আয়লা’-র বাদশা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একটি সাদা রঙের খচ্চর উপহার দিয়েছেন এবং তাকে একটি চাদর দিয়েছেন। (সহীহ বুখারী-২৯৯০)

আব্বাস বিন আব্দুল মোত্তালিব হুনাইনের দিন সম্পর্কে বলেন: রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি সাদা রঙের খচ্চরের উপর ছিলেন; যে খচ্চরটি ফারওয়া বিন নুফাছা আল-জুযামি তাঁকে হাদিয়া দিয়েছিলেন। (সহীহ মুসলিম-১৭৭৫)

আলী বিন আবু তালেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ‘দুমাত’ (একটি স্থান) এর ‘উকাইদির’ (রাজা) একটি রেশমী কাপড় হাদিয়া দিয়েছেন। তখন তিনি সেটা আলী (রাঃ) কে দিয়ে বললেন: “এটাকে কেটে খিমার (নারীর অবগুণ্ঠন) বানিয়ে ফাতেমাদেরকে দাও।” (সহিহ বুখারী-২৪৭২, সহিহ মুসলিম-২০৭১)

ইমাম নববী রহ. বলেন,

“এ হাদীসে কাফেরদের হাদিয়া গ্রহণ করা বৈধ হওয়ার পক্ষে দলিল রয়েছে।” (শারহু মুসলিম-১৪/৫০)

আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে: এক ইহুদী মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে একটি বিষযুক্ত ভেড়া নিয়ে আসে এবং তিনি সে ভেড়া থেকে খেয়েছেন। (সহীহ বুখারী-২৪৭৪, সহীহ মুসলিম-২১৯০)

সৌদি আরবের স্থায়ী কমিটির ফতোয়াসমগ্রে শাইখ আব্দুল আযিয বিন বায, শাইখ আব্দুল আযিয আলে শাইখ, শাইখ বকর আবু যায়েদ বলেন,

“অমুসলিমেরা সাধারণ উপলক্ষসমূহে যেমন- নতুন শিশুর জন্ম ও অন্যান্য উপলক্ষে মুসলিমদেরকে যে সব মিষ্টান্ন প্রদান করে সেগুলো খাওয়া জায়েয; ধর্মীয় উপলক্ষকেন্দ্রিক নয়। কেননা এগুলো কাফেরের প্রদত্ত হাদিয়া গ্রহণের পর্যায়ভুক্ত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি মুশরিকদের থেকে হাদিয়া গ্রহণ করেছেন।”। (ফাতাওয়াল লাজনাদ দাঈমা (আল-মাজমুআ আস-সানিয়া) (১০/৪৭০)

শাইখ বিন উছাইমীন রহ. কে জিজ্ঞেস করা হয়: আমার একজন অমুসলিম প্রতিবেশী আছে। কখনও কখনও বিভিন্ন উপলক্ষে সে আমাকে খাবার ও মিষ্টান্ন পাঠায়। এ খাবার আমি খাওয়া ও আমাদের বাচ্চাদেরকে খাওয়ানো কি জায়েয হবে জবাবে তিনি বলেন,

“হ্যাঁ। যদি আপনি নিরাপদ মনে করেন তাহলে কাফেরের দেওয়া হাদিয়া খাওয়া আপনার জন্য জায়েয। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে ইহুদী মহিলা ভেড়া হাদিয়া দিয়েছে তিনি সেটা গ্রহণ করেছেন এবং যে ইহুদী তাঁকে তার বাসায় দাওয়াত করেছে তিনি তার দাওয়াত গ্রহণ করেছেন এবং তার খাবার খেয়েছেন।

তাই কাফেরদের হাদিয়া গ্রহণ করতে ও তাদের বাসায় খেতে কোন আপত্তি নেই। কিন্তু শর্ত হচ্ছে- নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। যদি কোন আশংকা থাকে তাহলে তাদের দাওয়াত গ্রহণ করা যাবে না। অনুরূপভাবে আরেকটি শর্ত হচ্ছে তাদের ধর্মীয় উপলক্ষ না হওয়া; যেমন- খ্রিস্টমাস পালন ও এ ধরণের কোন উপলক্ষ। এ ধরণের অবস্থায় এ উপলক্ষকেন্দ্রিক তাদের হাদিয়া গ্রহণ করা যাবে না।” (ফাতাওয়া নুরুন আলাদ দারব (২৪/২)

আল্লাহ্‌ই সবচেয়ে ভালো জানেন।

আরও পোস্ট

একটি মন্তব্য

  1. আসসালামু আলাইকুম । আমি কিছুদিন পূর্বে অনলাইনে PDF ফরম্যাটে কয়েকটি বই ডাউনলোড করতে গিয়ে পবিত্র কুরআন মজিদের PDF ফরম্যাট পাই । আমি তখন তা ডাউনলোড করি । বস্তুত আজকাল pdf,ebook ইত্যাদি ফরম্যাটেই কুরআন শরিফ মোবাইলে ডাউনলোড করা যায় । আমার প্রশ্ন হলো মোবাইলে কুরআন মজিদ পড়তে গেলে কি ওযু সহ স্বাভাবিক আদব কায়দা মেনে পড়তে হবে? PDF এ ঢোকার সময় কোন নিয়ম অনুসরণ করতে হবে ? বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়ার জন্য আমি মোবাইল থেকে কুরআন মজিদের pdf ফাইলটি পড়তেও পারছি না আবার মোবাইল থেকে ডিলিট করে দিতেও দ্বিধা হচ্ছে । উত্তরটি জানালে উপকৃত হব ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close