মুফতি যাকারিয়্যা মাহমূদ-এর কলাম

হারামাইনের আলেমদের পদধূলিতে ধন্য হোক আমার দেশ

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আজ ঢাকায় পবিত্র মক্কা ও মদীনার দু জন সম্মানিত ব্যক্তি মেহমান হয়ে এসেছেন। একজন পবিত্র মসজিদুল হারাম পরিচালনা কর্তৃপক্ষের উপপ্রধান, শায়খ ড. মুহাম্মদ বিন নাসের আল খুযাইম হা., অপরজন পবিত্র মসজিদে নববীর মুহতারাম ইমাম ও খতীব, মদীনা সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের মহামান্য বিচারপতি ও মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হায়ার স্টাডি ইন জুডিশিয়ালের অধ্যাপক শায়খ ড. আব্দুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ আল কাসেম হা.। দু জনই শীর্ষ আলেম। রাসূলের যোগ্য উত্তরসূরি। অথচ কি আশ্চর্য এ নিয়ে দেশে কোন আলোচনা নেই! লেখালেখি নেই! সবই নীরব! সবাই নির্বিকার! ফেসবুক ও ইসলামী পাড়ায় এ সন্দেহমূলক নীরবতা কিসের আলামত বহন করে?

পাশের দেশ থেকে একজন সামান্য মৌলভী এলেও যে পরিমাণ লাফালাফি-ফালাফালি হয়, সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দূর থেকে এলে যে পরিমাণ আনন্দ উচ্ছ্বাস আবেগ দেখা যায়, আরেকটু দূর থেকে এলে যে ফুলেল শুভেচ্ছায় সর্বত্র সরগরম হয়ে ওঠে,  সেরকম কোন কিছু এই দু দিনে দেখলাম না।

আদর্শিক চিন্তা-চেতনায় আমরা আজ এতটায়ই নিচুতে চলে এসেছি যে, অন্য পাড়ার ভিন্ন লোকের সব কিছুতেই সর্বদা দুর্গন্ধ খুঁজে বেড়াই। এ লক্ষণ মঙ্গল জনক নয়। এখানে হারামাইনের অতিথিরা কার দাওয়াতে কী ভাবে আসলেন বিষয়টি কোন ভাবেই বিবেচ্চ নয়। এটি নিষ্প্রয়োজন। যারা তাদেরকে এনেছেন ক্যারেক্টার ও উদ্দেশ্য তাদের যাই হোক না কেন, অন্তত এই একটি জায়গাতে হলেও তারা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

আসলে মাণীরাই অন্যকে মাণ দেয়। সম্মানীরাই গুণীজনদের সম্মান করে। হারামাইনের সম্মানিত ইমামদের সম্মান জানাতে না পারা আসলে এ জাতির দীনতা হীনতা আর নীচতারই বহিঃপ্রকাশ। সঙ্কীর্ণ চিন্তা-চেতনা আর আদর্শিক দেওলিয়াপনারই নামান্তর।

হারামাইন শরীফাইনের অতিথিদেদের পদধূলিতে আমার দেশ ধন্য হোক, রহমত বর্ষিত হোক। আমাদের সংকীর্ণ মানসিকতা দূরীভূত হোক। আমাদের অন্তরগুলো আরো প্রশস্ত হোক। হিংসা বিদ্বেষ বিদূরিত হোক। ঈমান ও ইসলামের আলোয় শানিত হোক। বিলাদুল হারামাইনের সঙ্গে অটুট ও গভীর সম্পর্ক স্থাপিত হোক। সর্বোপরি আরব বিশ্বের ওলামাদের সাথে আমাদের আন্তরিক সুসম্পর্ক হোক। মহান রবের দরবারে এই-ই বিনীত প্রার্থনা।

আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close