প্রশ্নোত্তর-ফাতাওয়ামুফতি যাকারিয়্যা মাহমূদ-এর কলাম

 নারীর চাকরি: কী বলে ইসলাম

প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম। নারীদের চাকরি করারা ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? জানিয়ে বাঁধিত করবেন।

উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
একান্ত প্রয়োজন ব্যতিরেকে ইসলাম সাধারণ অবস্থায় নারীদেরকে ঘরে অবস্থান করার কথা বলে। দ্বিতীয়ত ইসলামের বিধিবদ্ধ আইনে নারীর উপর ব্যয় নির্বাহের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। নারীর যাবতীয় ব্যয়ভার নির্বাহ করবে পুরুষ। সুতরাং স্বাভাবিক নিয়মে নারীর কর্মসংস্থানের কোনো প্রয়োজন নেই এবং থাকার কথাও নয়।

আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে এবং জাহিলিয়াতযুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না।’ (সূরা আহযাব ৩৩)

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, পুরুষ নারীর ব্যবস্থাপক। কারণ আল্লাহ তাদের এক জনকে আরেক জনের উপর মাহাত্ম্য দান করেছেন। এবং তারা তাদের ধনসম্পদ (নারীদের উপর) ব্যয় করে। সুতরাং সতী সাধ্বী নারীরা হয় অনুগতা এবং আল্লাহ তা‘আলা যেসব বিষয় হিফজতযোগ্য করেছেন লোকচক্ষুর অন্তরালে তারা তার হিফাজত করে। (‘সূরা নিসা-৩৪)

আল্লাহ তা‘আলা আরোও বলেন, আর পিতার উপর কর্তব্য, বিধি মোতাবেক তাদের (স্ত্রীদের) ভরণ-পোষণ করা। কাউকেও তার সাধ্যাতীত কার্যাভার দেওয়া হয় না। (সূরা আল বাকারা-২৩৩)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, ‘নারী গোপন জিনিস, যখন সে ঘর থেকে বের হয় শয়তান তাকে তাড়া করে। আর সে আল্লাহ তাআলার সবচে’ নিকটতম তখন হয় যখন সে নিজের ঘরের মাঝে লুকিয়ে থাকে।’ (তাবরানী-২৯৭৪)

রাসূলুল্লাহ ﷺ কে স্ত্রীর প্রতি পুরুষের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, যখন তুমি আহার করবে তখন তাকেও (স্ত্রী) আহার করাবে, যখন তুমি বস্ত্র পরিধান করবে তখন তাকেও বস্ত্র পরিধান করাবে। (সুনানে আবু দাঊদ-২১৪২)

তবে নারীর কর্মতৎপরতা কেবলমাত্র সংসারের অভ্যন্তরীণ কর্ম সম্পাদন, জ্ঞানার্জন ও চিন্তা-গবেষণার ক্ষেত্র পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে ইসলাম এমন কথা বলেনি; বরং ইসলামের দৃষ্টিতে নারী যেমন সংসারধর্মের পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা লাভে অগ্রসর হতে পারে, তেমনি কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে, চাকরি ও অন্যান্য বৈধ উপার্জনের কর্মকাণ্ডেও অংশগ্রহণেরও সম্পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করে। সেই সঙ্গে সমাজ, দেশ ও জাতির কল্যাণমূলক কাজেও তারা ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, নারীদের এসব কাজে নেমে যেতে হবে এবং তা তাদের জন্য অত্যাবশ্যক।

তবে পরিবার বা সমাজে এমন কিছু পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যার কারণে নারীদেরও কর্মসংস্থানের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তখন শরঈ বিধান পালন পূর্বক কিছু শর্ত সাপেক্ষে নারীদের জন্যও কর্মসংস্থানের অনুমতি ইসলাম দিয়েছে, যেমন: রাসূলুল্লাহ ﷺ নারীদের উদ্দেশে বলেন, নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য প্রয়োজনে বাহিরে বের হওয়ার অনুমতি আছে। (সহীহ বুখারী-৪৭৯৫, সহীহ মুসলিম-৫৭৯৬)

শর্ত সমূহ:

১ চাকুরি হতে হবে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে। বিনা প্রয়োজনে শুধুমাত্র শখের বসে বা বিলাসিতার জন্য
হবে না।
২ কাজ হতে হবে হালাল ও শরীয়ত নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যে।
৩ চাকরিতে অভিভাবকের অনুমতি লাগবে।
৪. যাতায়াত ও কর্মস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকতে হবে।
৫. কর্মস্থলটি শুধুমাত্র নারীদের জন্যই হবে, সেখানে ভিন পুরুষের সাথে মেলামেশার কোনো সুযোগ থাকবে না।
৬. ফেতনা-ফ্যাসাদে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে।
৭. চাকরিটা তার দৈহিক, মানসিক স্বভাব ও রুচির সঙ্গে সামন্জস্যশীল হতে হবে। যেমন, ডাক্তারি, নার্সিং, শিক্ষা, সেলাই কিংবা এ জাতীয় পেশা।
৮. কর্মক্ষেত্রে পর্দার পরিপূর্ণ পরিবেশ থাকতে হবে। অন্যথায় জায়েয হবে না।
৯. চাকরির কারণে যাতে ভিন পুরুষের সঙ্গে সফর করা যাবে না।
১০. ড্রাইভারের সঙ্গে একাকী যাওয়া যাবে না।
১১. পারফিউম ব্যবহার করে বের হওয়া যাবে না।
১২. নারীর প্রধান কাজ ও দায়িত্ব হচ্ছে স্বামীর খেদমত ও তার সন্তুষ্টি অন্বেষণ ও মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করা। যদি চাকরি করতে গিয়ে এসব দায়িত্ব পালনে অসুবিধা হয় তাহলে তার জন্য চাকরি করা জায়েয হবে না। (ফাতাওয়া আল মারআতিল মুসলিমাহ ২/৯৮১, ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/৩৫৯) বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন ইসলামে নারীর উপার্জন।

লেখক: মুফতি যাকারিয়্যা মাহমূদ মাদানী
পরিচালক: ভয়েস অব ইসলাম।
প্রধান গবেষক: আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন
সম্পাদক ও প্রকাশক: ডেইলি মাই নিউজ।
jakariyamahmud@gmail.com

আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close