পরিবার ও দাম্পত্যপ্রশ্নোত্তর-ফাতাওয়া

স্বামীর যৌনাঙ্গ মুখে নেওয়া: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি

প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম। আমার স্বামী লিঙ্গ চুষতে বলে। এটা তার খুব পছন্দ। আমি চুষতে না চাইলে সে কষ্ট পায়। এখন আমারও অভ্যাস হয়ে গেছে। আমি জানতে চাই এটা কি ইসলামে জায়েয আছে? জানাবেন। দয়া করে আমার নাম প্রকাশ করবেন না।

উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
এক. বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, স্বামী-স্ত্রী বৈধ যেকোনো পন্থায় সুখ-শান্তি ও আনন্দ উপভোগ করতে পারে। ইসলামে এর অনুমতি ইসলামে রয়েছে। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন,  نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّىٰ شِئْتُمْ

‘তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ; অতএব তোমরা যেভাবেই ইচ্ছা তোমাদের ক্ষেতে গমণ কর।’ (সূরা আল বাকারা-২২৩)

আল্লাহ্‌ তাআলা আরোও বলেন,  هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ

‘তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ।’ (সূরা আল বাকারা-১৮৭)

তবে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সুখ ও আনন্দ নেওয়ার ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে:

১. যেসব উপায়ে সুখ নেওয়া হারাম হওয়ার ব্যাপারে শরীয়তে স্পষ্ট দলিল রয়েছে তা পরিহার করতে হবে। যেমন, মলদ্বারে সহবাস এবং ঋতুবতী ও সন্তান প্রসব পরবর্তী সময়ে নির্গত রক্তস্রাব অবস্থায় সহবাস করা।
২. স্বামী-স্ত্রী পরস্পর থেকে সুখ ভোগ করার সময় ইসলামী শিষ্টাচার ও নীতি-নৈতিকতার প্রতি লক্ষ রাখতে হবে।

দুই. এবার আসি আপনার প্রশ্নে, আপনি জানতে চেয়েছেন, আপনার আপানকে স্বামী লিঙ্গ চুষতে বলে। এটা তার খুব পছন্দ। আপনি চুষতে না চাইলে সে কষ্ট পায়। এখন আপনিও তাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। এটা ইসলামে জায়েয আছে কি না?

এ প্রসঙ্গে বলবো, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের লজ্জাস্থান মুখে দেওয়া না দেওয়া বা নিষিদ্ধতার ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় না, তাই বিষয়টিকে সরাসরি অকাট্যভাবে হারাম বলার সুযোগ নেই। তাছাড়া স্বামী-স্ত্রী মধ্যকার আদর-সোহাগ, প্রেম, ভালোবাসা ও সুখ, আনন্দে ইসলামে কোনো নিষেধাজ্ঞাও নেই। তবে এতে বেশকিছু ইসলামী শিষ্টাচার বহির্ভূত দিক রয়েছে। যেমন,

১. অনেক ফুকাহায়ে কেরাম বীর্য ও মযিকেকে নাপাক মনে করেন। আর লজ্জাস্থান থেকে নির্গত বীর্য-মনি, মযি ইত্যাদি জিহ্বা, মুখ ইত্যাদিতে লাগতে পারে। আর জরুরত ছাড়া নাপাক স্পর্শ করাকে ফকিহগণ বৈধ মনে করেন না।
২. ফুকাহাগণ আরোও বলেছেন, মানুষের শরীরের সবচে’ সম্মানিত অঙ্গ হলো, চেহারা। আর লজ্জাস্থান হলো নাপাকির জায়গা। সুতরাং সম্মানিত জায়গাকে নাপাকির জায়গায় স্পর্শ করানো নিন্দনীয়।
৩. মুখ দ্বারা আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত করা হয়, যিকির-আযকার করা হয়। এই মুখে নাপাক লাগানো এবং নাপাকির স্থান চুমো দেওয়া বা সাক করা গর্হিত কাজ।
৪. মুখের অনেক জীবাণু লজ্জাস্থানে রোগ সংক্রামণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া লজ্জাস্থানের জীবাণু মুখে এবং মুখের ভায়া হয়ে ভেতরে রোগ সংক্রামণ করার আশংকা থাকে। দুর্ঘটনাবশত ধারালো দাঁতও বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এসব কারণে ফকিহগণ এটাকে মাকরুহ বলেছেন। তবে সহবাসের পূর্বে নাপাক না লাগার শর্তে কিছু ফকিহ স্বামীর লিঙ্গে চুমু দেওয়ার (লেহন নয়) অবকাশ দিলেও এটাকে পরিহার করাকে উত্তম বলেছেন। যেমন, প্রসিদ্ধ হানাফি ফকিহ বুরহানুদ্দীন মাহমুদ ইবন তাজুদ্দীন রহ. বলেন,  إذا أدخل الرجل ذكره في فم امرأته يكره لأنه موضع قراءۃ القرآن فلا یلیق به إدخال الذکر به

‘যদি পুরুষ তার লিঙ্গ স্ত্রীর মুখে প্রবেশ করায় তাহলে তা মাকরুহ হবে। কেননা, মুখ কোরআন তেলাওয়াতের স্থান। সুতরাং এখানে লিঙ্গ প্রবেশ করানো অনুচিত।’ (আল মুহীতুল বুরহানী ৮/১৩৪, আল মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাহ (৯/৩২)

উল্ললেখিত আলোচনার সারবস্তু হলো, যেহেতু এ বিষয়ের নিষিদ্ধতার ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য আসেনি তাই বিষয়টিকে সরাসরি হারাম বলা যাবে না। এ কথা বলাও ঠিক হবে না যে, এ কাজ কেউ করলে গুনাহগার হবে।  তাছাড়া যেহেতু অনেক আলেমের মতে এটি মাকরুহ, এবং সুস্থ রুচিবোধ ও উন্নত চরিত্র বিরোধী ও আদব পরিপন্থী কাজ তাই তা থেকে বিরত থাকা উচিৎ। তবে যদি লজ্জাস্থান থেকে নির্গত নাপাক বস্তু গিলে ফেলা হয় তাহলে তা হারাম হবে। আরবের বড় বড় স্কলারদের ফাতাওয়াও এমনই।

আল্লাহ্‌ই সবচেয়ে ভালো জানেন।

আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close