পরিবার ও দাম্পত্যপ্রশ্নোত্তর-ফাতাওয়া

স্ত্রীর যোনিতে মুখ দেওয়ার বিধান

প্রশ্ন: আমার স্বামী আমার যোনী চুষে। সে এতে অনেক তৃপ্তি অনুভব করে। আমি আমার স্বামীকে খুব ভালোবাসি। আমি তাকে খুশি রাখতে চাই। আমাকে জানাবেন কাজটি কি জায়েয হচ্ছে? নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।

উত্তর:  স্বামী-স্ত্রী বৈধ যেকোনো পন্থায় সুখ-শান্তি ও আনন্দ উপভোগ করতে পারে। ইসলামে এর অনুমতি ইসলামে রয়েছে।

আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন,

نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّىٰ شِئْتُمْ

‘তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেতস্বরূপ; অতএব তোমরা যেভাবেই ইচ্ছা তোমাদের ক্ষেতে গমণ কর।’ (সূরা আল বাকারা-২২৩)

আল্লাহ্‌ তাআলা আরোও বলেন,

هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ

‘তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ।’ (সূরা আল বাকারা-১৮৭)

যৌনাঙ্গ স্পর্শের ব্যাপারে ফুকাহায়ে আহনাফ একমত যে, তা কোনো প্রকার কারাহাত ছাড়াই জায়েয। আল্লামা ইবনে আবেদীন লিখেন,

سَأَل أَبُو يُوسُفَ أَبَا حَنِيفَةَ عَنِ الرَّجُل يَمَسُّ فَرْجَ امْرَأَتِهِ وَهِيَ تَمَسُّ فَرْجَهُ لِيَتَحَرَّكَ عَلَيْهَا هَل تَرَى بِذَلِكَ بَأْسًا؟ قَال: لاَ، وَأَرْجُو أَنْ يَعْظُمَ الأْجْرُ.

ইমাম আবু ইউসুফ আবু হানিফা রহ. কে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, যে তার স্ত্রীর যৌনাঙ্গ স্পর্শ করে এবং স্ত্রী তার যৌনাঙ্গ স্পর্শ করে, যেনো স্ত্রীর ওপর স্বামীর প্রবল আকর্ষণ জাগে- আপনি কি তাতে কোনো সমস্যা দেখেন? ইমাম আবু হানিফা রহ. বললেন, না, বরং আমি আশা করি, তাদের প্রতিদান আরো বেড়ে যাবে। (রদ্দুল মুহতার ৫/২৩৪; মাওয়াহিবুল জালীল ৩/৪০৬; আলখিরাশি আলা মুখতাসারিল খালীল ৩/১৬০; ইআনাতুত তালিবিন ৩/৩৪০)

‘হাম্বলি ফকীহগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন, সহবাসের পূর্বে হলে স্ত্রীর লজ্জাস্থান চুমো দেওয়া জায়েয এবং পরে মাকরুহ।’ (কাশশাফুল কিনা ৫/১৬-১৭)

এবার আপনার প্রশ্নে আসা যাক, আপনি জানতে চেয়েছেন আপনার স্বামী যোনিতে মুখ দেয়, এটি জায়েয কি না? এর উত্তরে বলবো, এ ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় না, তাই বিষয়টিকে সরাসরি হারাম বলার সুযোগ নেই। তবে এতে বেশকিছু ইসলামী শিষ্টাচার-বহির্ভূত দিক রয়েছে। যেমন,

১. লজ্জাস্থান থেকে নির্গত নাপাক (বীর্য, মযি ইত্যাদি) জিহ্বা, মুখ ইত্যাদিতে লাগবে। আর জরুরত ছাড়া নাপাক স্পর্শ করাকে ফকিহগণ বৈধ মনে করেন না।
২. মানুষের শরীরের সবচে’ সম্মানিত অঙ্গ হলো চেহারা। আর লজ্জাস্থান হলো নাপাকির জায়গা। সুতরাং সম্মানিত জায়গাকে নাপাকির জায়গায় স্পর্শ করানো নিন্দনীয়।
৩. মুখ দ্বারা আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত করা হয়, যিকির-আযকার করা হয়। এই মুখে নাপাক লাগানো এবং নাপাকির স্থান চুমো দেওয়া বা সাক করা গর্হিত কাজ।
৪. মুখের অনেক জীবাণু লজ্জাস্থানে রোগ সংক্রামণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া লজ্জাস্থানের জীবাণু মুখে এবং মুখের ভায়া হয়ে ভেতরে রোগ সংক্রামণ করার আশংকা থাকে। দুর্ঘটনাবশত ধারালো দাঁতও বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এসব কারণে ফকিহগণ এটাকে মাকরুহ বলেছেন। তবে সহবাসের পূর্বে নাপাক না লাগার শর্তে কিছু ফকিহ লজ্জাস্থানে চুমু দেওয়ার (লেহন নয়) অবকাশ দিলেও এটাকে পরিহার করাকে উত্তম বলেছেন। যেমন, প্রসিদ্ধ হানাফি ফকিহ বুরহানুদ্দীন মাহমুদ ইবন তাজুদ্দীন রহ. বলেন,

إذا أدخل الرجل ذكره في فم امرأته يكره لأنه موضع قراءۃ القرآن فلا یلیق به إدخال الذکر به

‘যদি পুরুষ নিজের লজ্জাস্থান স্ত্রীর মুখে প্রবেশ করায় তাহলে তা মাকরুহ হবে। কেননা, মুখ কোরআন তেলাওয়াতের স্থান। সুতরাং এখানে লজ্জাস্থান প্রবেশ করানো অনুচিত।’ (আল্মুহীতুল বুরহানী ৮/১৩৪, আল মাউসুআতুল ফিকহিয়্যাহ (৯/৩২)

উল্ললেখিত আলোচনার সারসংক্ষেপ হলো, যেহেতু এ বিষয়ের নিষিদ্ধতার ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য আসেনি তাই বিষয়টিকে সরাসরি হারাম বলা যাবে না। সেই সাথে এ কথা বলাও ঠিক হবে না যে, এ কাজ কেউ করলে গুনাহগার হবে। তবে যেহেতু অনেক আলেমের মতে এটি মাকরুহ, এবং সুস্থ রুচিবোধ ও উন্নত চরিত্র বিরোধী ও আদব পরিপন্থী কাজ তাই তা থেকে বিরত থাকা উচিৎ। এটাও মনে রাখতে হবে, যদি লজ্জাস্থান থেকে নির্গত নাপাক বস্তু গিলে ফেলা হয় তাহলে তা হারাম হবে।

আল্লাহ্‌ই সবচেয়ে ভালো জানেন। 

আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close