প্রশ্নোত্তর-ফাতাওয়াহালাল-হারাম

ধুমপান: ইসলামী দৃষ্টিকোণ

প্রশ্ন: ধুমপান করার হুকুম কী? বিড়ি, সিগারেটের ব্যবসা করা কি জায়েয? জানালে উপকৃত হব। 

উত্তরধুমপান করা হারাম। কারণ ধুমপান একটি ধীর গতির বিষক্রিয়া। এর মূল উপাদান তামাক। এই তামাক বিড়ি, সিগারেট, হুক্কা, পান যেভাবেই নেওয়া হোক না কেন তার মধ্যে রয়েছে ক্ষতিকর বিষ। নিকোটিন নামে বিড়ি, সিগারেটে যে একটি পদার্থ থাকে তা মানুষের জন্য মৃত্যুস্বরূপ। তাই বিশ্বের বেশির ভাগ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ধূমপানকে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুকি ও ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলছেন, ধূমপান মানে বিষপান। বিষপান যেমন মানুষকে শেষ করে দেয়, অনুরুপভাবে ধুমপানও মানুষকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দেয়। সিগারেটের প্যাকেটেও লেখা থাকে- সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ “ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর”।

একটি পরিসংখ্যান মতে, ফুসফুসের ক্যান্সারে যারা মারা যায় তাদের ৯০ শতাংশেরও বেশির মৃত্যুর কারণ ধূমপান। এছাড়াও ধুমপানে ঠোঁঠ কালো হয়ে যায়, হাতের নখ কালো হয়ে যায়, আলসার, যক্ষা ও ফুসফুসে ক্যান্সার হয়, খাওয়া-দাওয়ায় অনীহা আসে, যৌন ক্ষমতা হ্রাস পায়, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে মেডিসিন শরীরে কাজ করে না।

ধুমপান অর্থোপচয়ের পাশাপাশি মানবদেহের জন্য অপরিসীম ও অপূরণীয় ক্ষতি বইয়ে আনছে। জেনে শুনে এভাবে নিজের জান-মালের ক্ষতি করা শক্ত গুনাহ। অধিকন্তু ধুমপায়ীর মুখের দুর্গন্ধে অন্যের কষ্ট হয়, যা পৃথক আরোও একটি গুনাহ। তাই ধুমপান কোনোভাবেই জায়েয হতে পারে না। এ থেকে বিরত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক। এবং এগুলোকে জীবিকা উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা, উৎপাদন করা, সরবরাহ করা এবং এসব কাজে সহযোগিতা করা ও চাকুরী করা হারাম। 

আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন, وَلَا تُلْقُوْا بِأَيْدِيْكُمْ إِلَي التَّهْلُكَةِ

আর তোমরা নিজ হাতে নিজদেরকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না। আর সুকর্ম কর। নিশ্চয় আল্লাহ সুকর্মশীলদেরকে ভালবাসেন (সূরা আল বাকারা-১৯৫)

আল্লাহ্‌ তাআলা আরোও বলেন, وَ لَا تَقۡتُلُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِکُمۡ رَحِیۡمًا

আর তোমরা নিজেরা নিজদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে পরম দয়ালু। (সূরা নিসা-২৯)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِشَيْءٍ فِي الدُّنْيَا عُذِّبَ بِهِ يَوْمَ القِيَامَةِ

দুনিয়াতে যে ব্যক্তি নিজেকে যে জিনিস দ্বারা হত্যা করবে কিয়ামাতের দিন তাকে সে জিনিস দ্বারা শাস্তি প্রদান করা হবে।(সহীহ বুখারী-৬০৪৮)

ধুমপান মূলত অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম যে, টাকার একটা নোট নিয়ে সেটাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হল। যখন কেউ সিগারেটে আগুন ধরায় তখন আসলে সে সিগারেটে নয় টাকাটাই পুড়িয়ে ফেলে। এটা সম্পদের নির্মম অপচয়। এছাড়াও সিগারেট হারাম হওয়ার মতো আর যথেষ্ট কারণ আছে। যেমন, যখন কেউ ধুমপান করে তখন তার পাশের লোকের কষ্ট হয়। পরিবেশের ক্ষতি হয়। শিশুদের ক্ষতি হয় সবেচেয়ে বেশি। আর ইসলামে অপচয় ও অন্যের ক্ষতি করা হারাম।

আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন, وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ

এবং তোমরা খাও, পান কর কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না। (সূরা আল আরাফ-৩১)

আল্লাহ্‌ তাআলা অন্যত্র বলেন, وَ لَا تُبَذِّرۡ تَبۡذِیۡرًا, اِنَّ الۡمُبَذِّرِیۡنَ کَانُوۡۤا اِخۡوَانَ الشَّیٰطِیۡنِ ؕ وَ کَانَ الشَّیۡطٰنُ لِرَبِّہٖ کَفُوۡرًا

আর কোনভাবেই অপব্যয় করো না।, নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার রবের প্রতি খুবই অকৃতজ্ঞ। (সূরা বনী ইসরাঈল-২৬,২৭)

 

আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close