বিভ্রান্তিকর আক্বীদা বিশ্বাস

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শই মুমিনের নাজাতের একমাত্র পথ। সকল বিষয়ের ন্যায় ঈমান ও আক্বীদার ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শ থেকে বিচ্যুতি কঠিন পাপ ও ধ্বংসের পথ। তিনি যে কর্ম করেন নি সে কর্মকে বু্যুর্গী বা দীনদারী মনে করার অর্থ তাঁর সুন্নাতকে অপূর্ণ বলে গণ্য করা।

অনুরূপভাবে বিশ্বাস ও আক্বীদার ক্ষেত্রে তিনি যা বলেন নি তা বলা বা অনুরূপ কোনো বিষয়কে ইসলামী বিশ্বাসের অর্ন্তভুক্ত বলে গণ্য করাও তাঁর সুন্নাতকে অবজ্ঞা করা ও অপূর্ণ মনে করা। এরূপ করা কঠিন পাপ। কর্মের ক্ষেত্রে নেককার হলেও বা কর্মের ক্ষেত্রে পাপী না হলেও বিশ্বাস বা আক্বীদার ক্ষেত্রে এরূপ সুন্নাত-বিরোধিতার কারণে এ ব্যক্তি পাপী হন। এরূপ ব্যক্তি বিশ্বাসের বিভ্রান্তিকর কারণে জাহান্নামী হবেন বলে হাদীসে এসেছে।

এখানে জাহান্নামী হওয়ার অর্থ এই নয় যে, সে কাফের। বরং আক্বীদার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবীগণের সুন্নাতের ব্যতিক্রম বিশ্বাস উদ্ভাবনের ফলে সে আক্বীদাগত পাপে নিপতিত হয় এবং এজন্য সে জাহান্নামী হবে। আর সাধারণভাবে আক্বীদাগত বিদ‘আত কর্মগত বিদ‘আতের দিকে টেনে নিয়ে যায়।

এজন্য বিশ্বাসের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ কী বিশ্বাস পোষণ করতেন তা জানা মুমিনের অতীব প্রয়োজন। তাঁরা যা বলেছেন তা বলা, তাঁরা যা বলেন নি তা না বলা এবং সকল ক্ষেত্রে হুবহু তাঁদের অনুসরণ করার জন্য ইলমুল আক্বীদার পঠন ও পাঠন মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব।

আমরা যদি লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাই যে, কুরআনুল কারীমে ইহূদী, খৃস্টান, আরবের কাফেরগণ ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এরা সকলেই নিজদেরকে খাটি মুমিন বলেই দাবি ও বিশ্বাস করতো। তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দীনকেই বিভ্রান্তি ও পুর্বপুরুষদের মাধ্যমে প্রাপ্ত খাঁটি ধর্মের ব্যতিক্রম বলে মনে করতো। অথচ তারা সকলেই ঈমান বিনষ্টকারী শিরক, কুফর ইত্যাদির মধ্যে লিপ্ত ছিলো। তারা অনেক নেককর্ম করতো এবং আল্লাহ্‌র ইবাদত বন্দেগি করতো। কিন্তু ঈমান-বিনষ্টকারী বিষয়াদিতে বা র্শিক-কুফরে লিপ্ত থাকা অবস্থায় এ সকল কর্ম কখনোই আল্লাহ্‌র কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এজন্য মহান আল্লাহ্‌ বলেন:

‘‘নিশ্চয়ই তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্ববর্তীগণের প্রতি এ ওহী প্রেরণ করা হয়েছে যে, যদি তুমি শিরকে লিপ্ত হও, তবে অবশ্যই তোমার কর্ম বিনষ্ট হয়ে যাবে এবং তুমি নিশ্চিতরূপে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তরভুক্ত হবে।’’ (সূরা যুমার-৬৫)

মহান আল্লাহ্‌ আরো বলেন,

“আল্লাহ্‌ তাঁর সাথে শরীক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। তা ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছ ক্ষমা করেন। এবং যে কেউ আল্লাহ্‌র সাথে শরীক করে সে এক মহাপাপ করে।” (সূরা নিসা-৪৮)

এ মর্মে আরো অনেক আয়াত ও হাদীস বর্ণীত হয়েছে। এজন্য ঈমান বিনষ্টকারী বিষয়ের স্বরূপ, এগুলির কারণ ও পূর্ববর্তী উম্মাতগুলির বিভ্রান্তির কারণ ও প্রেক্ষাপট অবগত হওয়া মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব। অন্যথায় শয়তানের প্ররোচনায় অর্জিত ঈমান বিনষ্ট হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে।

লেখক: মুফতি যাকারিয়্যা মাহমূদ মাদানী
বি. এ অনার্স, এম. এ, এমফিল: মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব
পরিচালক: ভয়েস অব ইসলাম
প্রিন্সিপাল মাদরাসাতুল মাদীনাহ লিল বানাত, মিরপুর-১, ঢাকা
প্রধান গবেষক: আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন
সম্পাদক ও প্রকাশক: ডেইলি মাই নিউজ।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন
Close
Back to top button